প্রেমাতাল পর্ব - ২৩ || মৌরি মরিয়ম

মুগ্ধ কলাবাগান বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছে। ১০:৩০ এ বাস ছাড়বে। সামনেই সাফি আর দোলা বসে আছে। ওরা এসেছে হেল্প করার জন্য। কারন তিতিরকে পৌঁছে...


মুগ্ধ কলাবাগান বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছে। ১০:৩০ এ বাস ছাড়বে। সামনেই সাফি আর দোলা বসে আছে। ওরা এসেছে হেল্প করার জন্য। কারন তিতিরকে পৌঁছে দিতে আসবে ওর বাবা এবং ভাইয়া। তিতির বাসায় বলেছে এবারও টিওবি থেকেই যাচ্ছে খাগড়াছড়ি ট্রিপে। যেহেতু তিতিরের বাবা, ভাইয়া সাফি-দোলাদের চেনে তাই ওদেরকে নিয়ে এসেছে মুগ্ধ। ১০:২৫ বাজে, এখনো তিতির আসছে না দেখে মুগ্ধ দোলাকে দিয়ে ফোন করালো। তিতির জানালো ও প্রায় এসে গেছে।
মুগ্ধ আগে থেকেই বাসে উঠে থাকলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিতির এসে পড়লো ওর বাবার সাথে। বাবা তিতিরকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো বাস না ছাড়া পর্যন্ত। অগত্যা দোলা সাফিকেও বাসে উঠতে হলো। বাস ছেড়ে দেয়ার পরও তিতিরের বাবা দাঁড়িয়ে ছিল। তিতির জানালা দিয়ে মুখ বের করে বলল,
-"বাবা, তুমি রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে যাও।"
-"হ্যা যাচ্ছি।"
তারপর হাত নেড়ে টা টা বলল তিতির। বাবা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সাটায় উঠলো। বাস ততক্ষণে অনেক দূরে চলে এসেছে। বাস যেদিকে যাচ্ছে রিক্সা যাচ্ছে তার উলটো দিকে তাই বাবাকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না তবে রিক্সাটা দেখা যাচ্ছে। তবু তিতির তাকিয়েই আছে। মুগ্ধ বলল,
-"বাস তো ছেড়ে দিয়েছে, এবার মুখটা ভেতরে আনো। হুট করে আরেকটা বাস চলে আসতে পারে।"
তিতির শুনলো না। মুগ্ধ তিতিরের হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে আসলো। তিতিরের চোখভর্তি পানি। মুগ্ধ অবাক,
-"সেকি! কাঁদছ কেন?"
এতক্ষণ চোখে জমে থাকা পানিটা একফোঁটা পড়লো গাল বেয়ে। বলল,
-"আমি কখনো বাবাকে মিথ্যে বলে কোথাও যাইনি। খুব ভালবাসি বাবাকে। সব থেকে বেশি। আর আজ সেই আমি বাবাকে মিথ্যে বলে এতদূর যাচ্ছি। আমার খুব খারাপ লাগছে।"
মুগ্ধ কি বলবে বুঝতে পারলো না। নিজেকে খুব অপরাধী লাগছে। তিতিরের চোখ মুছে দিয়ে হাত ধরে বলল,
-"চলো আমরা নেমে যাই। যাওয়া লাগবে না। আমি তোমাকে দিয়ে আসছি।"
-"না আমি যাব।"
-"আরে পাগলী! আমি রাগ করে বলছি না। সত্যি বলছি এরকম খারাপ লাগা নিয়ে গেলে কি তোমারও ভাল লাগবে বলো?"
-"আমি জানি তুমি রাগ করে বলোনি। কিন্তু আমি যাব।"
-"কেন জেদ করছো?"
তিতির মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বলল,
-"কারন, আমার লাইফে বাবা যতটা ইম্পরট্যান্ট তুমিও ঠিক সমান ইম্পরট্যান্ট!"
মুগ্ধ কিছু বললনা শুধু মনে মনে ভাবলো, হুমায়ুন আহমেদ স্যার বলে গেছেন "কিশোরী মন বড়ই রহস্যময়।"
বাস শাহবাগ পৌঁছতেই দোলা আর সাফি বিদায় নিয়ে নেমে গেল। যাত্রাবাড়ী থেকে প্যাসেঞ্জার উঠানোর পর বাসের লাইট অফ করে দিল। আবছা আলোয় মুগ্ধ দেখলো তিতির সিটে হেলান দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। অনেকক্ষণ ধরে চুপ! মুগ্ধ ওকে ঘাঁটালো না। থাকুক কিছুক্ষণ নিজের মত। বাস যখন কাঁচপুর ব্রিজে উঠলো তিতির তখন বাসের জানালা দিয়ে মুখ বের করে রাখলো। মুগ্ধ আবার ওকে টেনে ভেতরে নিয়ে এসে বলল,
-"এটা করো না। রিস্কি খুব।"
তিতির হেসে বলল,
-"সবসময় তো করছি না। এখন একটু নদীর গন্ধ নিলাম। আবার যখন নদী পড়নে তখন একটু নেব। নিতে দেবে না?"
তিতিরের মুখে হাসি দেখে মুগ্ধ একটু স্বস্তি পেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুগ্ধর ফোন এল। পিউ ফোন করেছে,
-"হ্যালো, ভাইয়া?"
-"হুম বল।"
-"তোরা রওনা হয়েছিস?"
-"হ্যা, মাত্রই কাঁচপুর ব্রিজ পার হলাম।"
-"ওহ! তিতির আপু তোর পাশেই না?"
-"না পিছনে।"
-"পিছনে মানে? তোরা পাশাপাশি সিট পাসনি?"
-"যেমন প্রশ্ন ছিল তেমনই উত্তর ছিল।"
-"উফফ! বাদ দে। আপুকে দে না একটু কথা বলি?"
-"কাল সকালেই তো জলজ্যান্ত পেয়ে যাবি। এখন আবার কথা বলে কি করবি?"
-"দে না। শুধু আমি না, আম্মুও কথা বলবে।"
মুগ্ধ ফোনটা কানের কাছ থেকে সরিয়ে বলল,
-"একটু কথা বলবে? পিউ খুব চাইছে।"
তিতির বলল,
-"দাও, আবার জিজ্ঞেস করা লাগে?"
তিতির ফোনে ধরে বলল,
-"হ্যালো.."
পিউ ওপাশ থেকে বলল,
-"ওমা কি মিষ্টি ভয়েস গো তোমার! আমার ভাইটার আবার ডায়াবেটিস না হয়ে যায়।"
তিতির হাসলো। পিউ বলল,
-"হাসিটাও সুন্দর। উফ কখন যে তোমাকে দেখবো আমার আর তর সইছে না।"
তিতির বলল,
-"তোমাদের সবাইকে দেখার জন্যও আমার মনটা অস্থির হয়ে আছে। তোমার ভাইয়া তো সবসময় তোমাদের গল্প করে।"
-"তাই?"
-"হুম।"
-"এই শোনো আপু... মা তোমার সাথে কথা বলবে, নাও।"
তারপর হুট করেই পিউ ফোনটা মায়ের হাতে দিয়ে দিল। মা ওপাশ থেকে হ্যালো বলতেই তিতির সালাম দিল। তারপর জিজ্ঞেস করলো,
-"কেমন আছেন আন্টি?"
মা বলল,
-"এইতো আম্মু ভাল আছি। কিন্তু বড্ড অস্থির লাগছে। তোমরা সেফলি আসবে তারপর আমি শান্তি পাব।"
আহা কী অবলীলায় কথা বলছে! যেন হাজার বছরের চেনা। খুব ভাল লাগছিল তিতিরের। কথা শেষ হতেই মুগ্ধ বলল,
-"আমার মা তোমাকে দেখার আগেই মানে শুধু ছবি দেখেই পটে গেছে। শুধু তোমার সাথে কথা বলেই ফোন রেখে দিল। আমার সাথে কথাই বলতে চাইলো না।"
তিতির হেসে বলল,
-"জেলাস?"
-"নাহ! মা যত তোমাকে পছন্দ করবে আমার তো ততই ভাল লাগবে তাই না?"
তিতির আচমকা মুগ্ধকে জড়িয়ে ধরলো। মুগ্ধও ধরলো। পুরো বাস অন্ধকার। তিতির মুগ্ধর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,
-"আমি খুউউউব হ্যাপি।"
মুগ্ধও তিতিরের মত ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো,
-"কেন?"
-"তোমাকে পেয়ে।"
মুগ্ধ তিতিরের কপালে চুমু দিয়ে বলল,
-"আমিও খুব হ্যাপি! লাকি অলসো.. তোমাকে পেয়ে।"
তারপর তিতির আর কোনো কথা বলল না। কিছুক্ষণ পর মুগ্ধ আবিস্কার করলো তিতির ঘুমিয়ে পড়েছে। নিজের মনেই হাসলো মুগ্ধ। প্রায় এক ঘন্টা পর একটা স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার সময় বাসটা নড়ে উঠতেই তিতিরের ঘুমটা ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই হেসে দিল তিতির। তারপর মুগ্ধকে ছেড়ে দুই পা উঠিয়ে গুটিসুটি হয়ে নিজের সিটে মাথা রেখে মুগ্ধর দিকে ফিরে বসলো। তারপর মুগ্ধর হাত ধরে বলল,
-"একটা কথা বলবে?"
ইশ! তিতিরের ঘুমু ঘুমু ভেজা ভেজা ভয়েসটা কাছ থেকে কি যে সুন্দর লাগছে। ভয়েস যদি খাওয়া যেত মুগ্ধ এক্ষুনি খেয়ে ফেলতো। তিতির আবার হাতে নাড়া দিয়ে বলল,
-"বলোনা, বলবে?"
মুগ্ধ বলল,
-"হুম, বলো কি?"
-"ইকরা কিসে পড়ে?"
-"ভার্সিটিতে।"
-"আমার সমান?"
-"না তোমার চেয়ে অনেক বড়। ও আমাদের ভার্সিটিতেই পড়ে। এখন বোধহয় সেকেন্ড ইয়ার।"
-"ও। আচ্ছা ও কক্সবাজারে কি করেছিল? যার জন্য তোমার কাছে মাফ চাইছিল?"
-"অনেক খারাপ একটা কাজ করেছিল।"
-"সেটা তো তোমাদের মেসেজ দেখে আমি বুঝেছি। কিন্তু কি করেছে বলোনা? তুমি তো বলেছ বলবে।"
-"আমি তো বলতেই পারি কিন্তু তুমি তো সহ্য করতে পারবে না। আর লজ্জাও পাবে।"
-"সহ্য করতে না পারার কি হলো? পারব, বলোতো।"
-"আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুমের মধ্যেই ও আমাকে কিস করেছে।"
-"কোথায়?"
-"ঠোঁটে।"
-"মানে?"
-"বোঝোনি?"
-"তুমি করতে দিলে কেন?"
-"আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম রে বাবা। যখন টের পেয়েছি তখন তো উঠে চড় মেরেছি একটা।"
-"কিন্তু ততক্ষণে তো ও যা করার করেই ফেলেছে।"
-"নাহ, এর পরেও করেছে।"
-"কি করেছে?"
তিতিরের চোখেমুখে আতঙ্ক। মুগ্ধ বলল,
-"ও শার্ট পড়া ছিল। হঠাৎ শার্টের বাটনগুলো সব খুলে ফেলেছিল।"
-"কিহ?"
আবছা আলোয় মুগ্ধর বুঝতে অসুবিধা হলো না যে তিতিরের মুখটা লাল হয়ে গেছে। চোখে পানিও এসে গেছে, পড়ার অপেক্ষা শুধু। মুগ্ধ বলল,
-"কাঁদলে কিন্তু একটা থাপ্পড় মারবো। আমি কি তাকিয়েছিলাম নাকি ওর দিকে? আমি তো ওকে চড় মেরে ঘর থেকে বের করেই দিয়েছিলাম।"
-"কক্সবাজারে এটা কি করে সম্ভব? আর কেউ ছিলনা?"
-"সবাই মহেশখালী গিয়েছিল। আমার পা কেটে যাওয়ার আমি যাইনি। আর ও যে যায়নি কিকরে বলবো বলো? আমি তো ঘুমিয়েই ছিলাম।"
তিতির আর কিছু বলল না। মন খারাপ করে বসে রইলো। মুগ্ধ বলল,
-"তোমার কি মনে হয় তোমার মুগ্ধ বিলিয়ে দেয়া অর্ডিনারি জিনিস হাত পেতে নেয়?"
-"না।"
-"তাহলে মন খারাপ করছো কেন?"
-"জানিনা।"
মুগ্ধ তিতিরের কোমড় জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে আনলো। তারপর বলল,
-"তোমার মুগ্ধর তো শুধু তার তিতিরপাখির উপর লোভ! অনেক লোভ জানো?"
তিতির মিটিমিটি হাসলো। কোনো উত্তর দিল না। কিছুক্ষণ পর বলল,
-"তোমাকে আরেকটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। অনেক দিন আগে থেকেই ভেবেছি কিন্তু জিজ্ঞেস করা হয়নি।"
-"কি বলো?"
-"বান্ধরবানে একটা কথা বলেছিলে মনে আছে?"
-"বান্দরবানে তো কত কথাই বলেছি। কোনটার কথা বলছ এখন?"
-"ওইযে.. ইউ নেভার কিসড ইউর এক্স বিকজ অফ হার লিপস্টিক।"
মুগ্ধ তিতিরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। বলল,
-"হ্যা বলেছি তো। আর এটা ট্রু!"
-"তারমানে কি যেহেতু তোমার টোটাল ৩ জনের সাথে সম্পর্ক ছিল। তাই ওকে ছাড়া তুমি বাকি দুইজনের সাথে কিস করেছো?"
মুগ্ধ তিতিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"হ্যা করেছি। এটা তো একটা নরমাল ব্যাপার। তোমাকেও তো কতবার করতে চেয়েছি তুমি তো পারমিশন দাওনি।"
-"ওরা কি চাইতেই পারমিশন দিয়ে দিল?"
-"হ্যা। পারমিশন লাগেনি ওরাও উদ্যোগী ছিল।"
-"আমার অবাক লাগে তুমি কি টাইপের মেয়েদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলে!"
-"সবাই তো আর তোমার মত লাজুকলতা না।"
-"তোমার ওরকমই পছন্দ না? আমার টাইপ মেয়ে তেমন পছন্দ না?"
এবার মুগ্ধ একটু সিরিয়াস হয়ে বলল,
-"তিতির, তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা যে প্ল্যান করে হয়নি তা তো তুমি জানোই। সম্পর্কটা না করে বাঁচতাম না, তাই করেছি। ৫ দিনে বুঝে গিয়েছিলাম তোমাকে ছাড়া ভাল থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব। তোমার সাথে ওদের তুলনা করা চলে না। আর তুমি যেমন তেমনভাবেই আমি তোমাকে ভালবেসেছি, তেমবভাবেই ভালবাসতে চাই বাকীটা জীবন। আমার কি ধরনের মেয়ে পছন্দ অপছন্দ তা তুমি ভাবতেও যেও না। শুধু জেনে রেখো তোমাকে আমার পছন্দ!"
আহ! তিতিরের আবার উড়তে মন চাইছে। কিছু বলল না, মনে মনে উড়তে লাগলো। মুগ্ধ বলল,
-"এই অনেক সিরিয়াস সিরিয়াস কথা হয়েছে। এবার একটু তাকাও না আমার দিকে।"
তিতির তাকালো। মুগ্ধ তিতিরের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। তিতির মুগ্ধর গালে হাত রেখে বলল,
-"তোমার দাড়িটা এখন একদম পারফেক্ট সাইজ। বেশি বড়ও না, আবার বেশি ছোটও না। কেন যে ক্লিনসেভ করো!"
-"অফিসের জন্য।"
-"ধুর! অফিসকে বলবা এটা ফরমাল হওয়ার নতুন স্টাইল।"
-"তাই অনেক সুন্দর লাগছে?"
-"অন্নেক!"
-"তাহলে একটা চুমু দাও।"
তিতিরের জন্য ভালই হলো। এতক্ষণ দাড়ির দিকে তাকিয়ে তিতিরের একটা চুমু দিতেই ইচ্ছে করছিল। কিন্তু লজ্জায় বলতে পারেনি। মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে কিন্তু ওইযে লজ্জা! লজ্জায় পারেনা।
মুগ্ধ গাল বাড়িয়ে আছে। যদিও অন্ধকার আর এত রাতে সবাই ঘুমাচ্ছে তবু তিতির আশেপাশে তাকিয়ে একবার দেখে নিল। তারপর মুগ্ধর বাড়িয়ে রাখা গালটাতে একটা চুমু দিল। তিতির যখন সরে যাচ্ছিল তখন মুগ্ধ তিতিরের মুখটা ধরে ইচ্ছেমত ওর গালে গাল ঘষে দিল। তিতির ব্যাথায় উঁহ করে উঠলো। মুগ্ধ তাড়াতাড়ি ওর মুখ চেপে ধরে বলল,
-"আস্তে। কি সব সাউন্ড করছো! কেউ শুনলে কি ভাববে জানো? বোকা মেয়ে কোথাকার!"
তিতির মুগ্ধর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে ঠোঁট উলটে বলল,
-"দাড়ি না যেন তাঁরকাটা।"
একথা শুনে মুগ্ধ হেসে গড়িয়ে পড়লো। তারপর বলল,
-"তোমার না দাড়ি ভাল লাগে?"
তিতির মুগ্ধর আরো কাছে এসে বলল,
-"ভাল লাগে তো। এখনো লাগে। দাড়ি দিয়ে আরো যত খোঁচাই দাও না কেন তবু ভাল লাগবে। আই জাস্ট লাভ ইট।"
-"তাই? তাহলে আরেকবার দিই?"
-"দাও।"
মুগ্ধ এবার তিতিরের গালে নয় ঘাড়ে দাড়ি ঘষে দিল। তিতির ছিটকে সরে গেল। ওপাশে মুগ্ধর একটা হাত না থাকলে তিতির জানালার উপর পড়ে ব্যাথা পেত। তিতির ঘাড়ের সেখানে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলো। ওর হার্টবিট ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে। চোখ বন্ধ করে দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলছে। মুগ্ধ জিজ্ঞেস করলো,
-"ব্যাথা পেয়েছ?"
তিতির আবার সেই ভেজা স্বরে বলল,
-"না।"
কিন্তু মুখ তুলে তাকালো না তিতির। একইভাবে বসে রইলো। মুগ্ধ ওকে বুকে টেনে নিল। তারপর তিতিরের পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
-"পাগলী! শান্ত হও। এখনি এত অস্থির হলে ভবিষ্যতে কি করবে?"
তিতির কিছু বলল না। মুগ্ধ বলল,
-"আচ্ছা, তোমার কি খুব ভাল লেগেছিল?"
তিতির চুপ। মুগ্ধ বলল,
-"জাস্ট সে ইয়েস অর নো।"
তিতির এবারেও চুপ করে রইলো। মুগ্ধ বলল,
-"আচ্ছা যাও সহজ করে দিচ্ছি। ভাল না লাগলে তুমি আমার বুক থেকে উঠে তোমার সিটে গিয়ে বসো। আর যদি ভাল লাগে তাহলে এভাবেই থাকো আমার বুকে।"
তিতির আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করলো ন। দুই হাত দিয়ে আরো শক্ত করে মুগ্ধকে জড়িয়ে ধরলো। মুগ্ধ হেসে বলল,
-"জানতাম তো!"
To be continued....

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,31,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,31,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,31,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: প্রেমাতাল পর্ব - ২৩ || মৌরি মরিয়ম
প্রেমাতাল পর্ব - ২৩ || মৌরি মরিয়ম
https://1.bp.blogspot.com/-kXPikmMR8GQ/XLLhybdXSdI/AAAAAAAAARA/WoSCuMGlsl8DtgA0u6CAHfd2JcN1JMb-gCPcBGAYYCw/s320/Logopit_1555224034127.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-kXPikmMR8GQ/XLLhybdXSdI/AAAAAAAAARA/WoSCuMGlsl8DtgA0u6CAHfd2JcN1JMb-gCPcBGAYYCw/s72-c/Logopit_1555224034127.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/05/blog-post_29.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/05/blog-post_29.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content