--> মেঘ রোদ্দুর পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ | LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network

মেঘ রোদ্দুর পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ

Jisan Ahmed Raj বুকের উপর থেকে শাড়ির আচলটা টান দিতেই মেয়েটা কেমন যেন কেঁপে ওঠল। হাত দিয়ে শাড়ির আচলটা আকটাতে চেয়েও আকটালো না। মেয়...



Person Jisan Ahmed Raj
বুকের উপর থেকে শাড়ির আচলটা টান দিতেই মেয়েটা কেমন যেন কেঁপে ওঠল। হাত দিয়ে শাড়ির আচলটা আকটাতে চেয়েও আকটালো না। মেয়েটার চোখের কোণে পানি এসে গেল। মুখটা লালবর্ন ধারণ করেছে। পিংক কালারের লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটজোড়া কাঁপছে। দেখেই লিপস্টিকের উষ্ণ ছোঁয়া নেওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠছে।
আমার সেই দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই! আমার দরকার মেয়েটার শরীর কেনই না? কারণ মেয়েটাকে এক রাতেই জন্য ভাড়া করেছি। দেখতে খুব সুন্দর যে কোন পুরুষের দেখলেই কামতারণা জাগবে।
মেয়েটার বুক থেকে, কাপড়টা সরাতে সরাতে, মেয়েটা চোখ বন্ধ করে নিল, আমি নিজের অজান্তেই মেয়েটার গোলাপের পাপড়ীর মতো ঠোঁটের সাথে ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দিলাম! মেয়েটার চোখের কাজলগুলো লেপ্টে যাচ্ছে। কিন্তু আমাকে সরানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। কারণ পতিতাদের সে ইচ্ছা থাকলেও ক্ষমতা থাকে না।
হঠাৎ বিছানা কাপতে লাগল। চেয়েই দেখে বালিশের সাইডে, মেয়েটার ফোনটা কাঁপছে।
"কিছু যদি মনে না করেন ফোনটা ধরতে পারি" ( মিনতীর সুরে কথাটা বললো)
আরো কোন জায়গায় কন্টাক্ট রাখছিস নাকি আজকে আরো?সেখান থেকে কী ফোন দিয়েছে? ( আমি)
মেয়েটা কেমন যেন করুণভাবে তাকালো। ( মনে হচ্ছে এই চাহনীর মাঝে যে কেউ নিজেকে মুর্হূতের মাঝেই হারিয়ে ফেলবে)
আচ্ছা! ফোন ধর, তবে আমার সামনে কথা বলতে হবে।( আমি)
মেয়েটা মুচকি হাসলো,চোখের পানিগুলো চিকচিক করছে।
মেয়েটা ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে এক ছোট বাচ্চা কণ্ঠ শুনতে পেলাম।
ফোনের ওপাশ থেকে কে যেন বলছে" আপু তুমি কখন আসবে? জানো আপু মা না কেমন যেন করছে। ডাক্তার আঙ্কেল বলছে" টাকা না দিলে মাকে আর চিকিৎসা করবে না ।মা'কে চিকিৎসা না করলে , মা বাঁচবে না আপু। আপু তুমি কখন আসবে টাকা নিয়ে।
হ্যাঁ, জান্নাত আমার কলিজার টুকরা আমি না অনেক বড় একটা কাজ করতেছি, কাজটা শেষ হলেই, তোর জন্য চকলেট আর মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে আসব। আর আমার ময়নাপাখিটা এখনো ঘুমায়নি কেন? আর হ্যাঁ জান্নাত আজকেও কি তোর কোমড়ের বাম সাইডে ব্যাথা উঠেছিল? ( মেয়েটা)
হ্যা আপু দুপুরে অনেক পেইন করেছিল। পরে ওষুধ এনে দিয়েছিলে না তুমি সেটা খেয়ে ভালো হয়ে গেছে। আচ্ছা! আপু তুমি কি কাজ করো? আমিও করবো, আমরা দু'বোন যদি কাজ করি, তাহলে মা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে তাই না? আপু বলো না তুমি কি এমন বড় কাজ করছো, এতো টাকা দিবে, বলো না আপু? দু'বোন মিলে কাজ করবো, আমাকে করতে দিবে, তো?( জান্নাত)
মেয়েটার দিকে তাকালাম, মেয়েটা কাঁদছে। যাকে বলে চাঁপা কান্না। চোখের পানি মুছে বলতে লাগল" না আমার ময়নাপাখিটার কাজ করতে হবে না, চুপ আর কোনদিন কাজ করার কথা বলবি না। আমি কি মরে গেছি। তুই কান্না করছিস কেন? জান্নাত তুই একদম কাঁদবি না! ( মেয়েটা)
আপু তুমি কখন আসবে, জানো না তোমার গলা জড়িয়ে না ঘুমালে আমার ঘুম হয় না! ( জান্নাত)
ময়নাপাখি রাগ করো না, আজকে রাতে যে আমার ময়নাপিখিটার সাথে ঘুমাতে পারবো না, । আজ সারারাত কাজ করবো, তা না হলে যে টাকা পাবো না। ( মেয়েটা)
আপু ভাল মেয়েরা রাত জেগে কাজ করে না। মা বলতো না যে" ভালো মেয়েরা সন্ধ্যার পর বাড়ির বাহিরে থাকে না, তুমি কেন বাহিরে থাকবে। আপু তুমি কষ্ট পেয়ো না, জানো আজ আমার টিচার ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে বলেছে তুমি নাকি খারাপ কাজ করো। তাই আমাকে পড়াবে না, আমি বলেছি আমার আপু দুনিয়ার শেষ্ঠ আপু। আমার আপু সত্যিই অনেক ভালো আপু। আমি ঠিক বলেছি না? বল আপু তোমার ময়নাপাখি ঠিক বলেছে? আপু যখন তোমার নামে পঁচা কথা বলেছে তখন না আমার খুব কষ্ট হয়েছে। আপু তুমি কখন আসবে, তুমি রাতে যদি না আসো তাহলে খাবো না।( জান্নাত)
আপু তুমি খেয়ে নাও, আমি রাতেই আসবো কেমন। এখন কাজ করতে হবে। ( কথাটা বলে ফোনটা রেখে দিল)
আমি বিছানায় এক কোণায় বসে কথাগুলো শুনছিলাম।
সরি ক্ষমা করবেন, ছোট বোনটার সাথে কথা বলতে গিয়ে লেট হয়ে গেল। কি করবো বলেন, বোনটার কিডনির সমস্যা! আচ্ছা বাদ দেন, রাত দশটা বাজে, কি করবেন করেন, কথাটা বলে শাড়িটা খুলতে লাগল।
আমি, মেয়েটার খুলা শাড়িটা, ফ্লরে থেকে নিয়ে কুচি দিয়ে পড়িয়ে দিলাম।যখনি কুচিটা নাভির নিচে নিজের অজান্তেই গুজে দিতে গেলাম মেয়েটা কারেন্ট শর্ক করার মতো কেমন যেন কেঁপে ওঠল। আমি শাড়িটা পড়িয়ে দিয়ে রুম থেকে বের হওয়ার সময় মেয়েটা বলল" কি হলো কিছু করবেন না? আপনার আজ যা মন চাই তাই করতে পারেন, কোন বাঁধা দিবো না। কিন্তু প্লিজ দশ হাজারের কম টাকা দিবেন না। কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
ঠাস- ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলাম । মেয়েটা মাথা নিচু করে কাঁদছে। এই মেয়ে তোর মতো মেয়ের সাথে আমি রাত কাটাতে পারবো না।
আমার কথাটা শুনে মেয়েটার মাথায় যেন ভাঁজ ভেঙ্গে পড়লো। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল" আমাকে কি পছন্দ হয়নি? প্লিজ আপনার যা মন চায় করুন। আমার টাকাটা খুব প্রয়োজন। এতো রাতো কোন কাস্টমার পাওয়া যাবে না। কথাটা বলেই মেয়েটা পায়ে জড়িয়ে ধরে ফেলল।
আমি আকস্মিক ঘটনায় বিস্মিত হলাম!একটা মেয়ে নিজের সতিত্ব বিক্রি করার জন্য পাঁয়ে পর্যন্ত ধরে, কতটা কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়ালে। মেয়েটাকে পাঁয়ে থেকে তুলে বললাম" আমি আপনার সাথে কন্টাক্টের টাকা'টা ঠিকই দিবো।
তবে, আপনি কেন নিজের ইচ্ছায় নারীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বিলিয়ে দেওয়ার জন্য আমার পাঁয়ে পড়ছেন। সেই কারণটা বলতে হবে। তা নাহলে এখনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন। ( আমি)
মেয়েটা আমার কথা শুনে চোখের পানি মুছে বলতে লাগল, তাহলে শুনুন কেন আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি মূল্যবান সম্পর্দ বিলিয়ে দিচ্ছি!
" আমার নাম কারিমা জাহান ( কথা)। সবার কথা বলেই ডাকে। গ্রামে জন্ম, আমার বাবা একটা বেসরকারি চাকরিজীবি। খুব ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আমাদের জীবনে নেমে আসলো অন্ধকারের কালো ছায়া আমি তখন, এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট আসল A+। স্কুল থেকে খুশি মুখে বাসায় এসে দেখি বাড়ি ভর্তি অনেক লোক। লোক সরিয়ে যতই সামনে যাচ্ছি ততই মায়ের কান্না শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ যা দেখলাম আমার হাত থেকে রেজাল্ট সীর্ট'টা মাটিতে পড়ে গেল। পৃথিবীটা আমার মাথায় উপর ঘুরছে, পায়ের নিচে মাঁটি সরে যাচ্ছে। কারণ মা-বাবার লাশকে সামনে নিয়ে কাঁদছে। ছোট দুই বছরের বোন জান্নাত মায়ের পাশে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। আমি এসব দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। শুনেছি দুইদিন পর জ্ঞান ফিরে। বাবাকে শেষ দেখাটাও হয়নি। কাকারা চক্রান্ত করে বাড়ি ছাড়া করে। শহরে এসে টিউশনি করে কোনমতো, অনার্সটা কমপ্লিট করি। কতো জায়গায় চাকরি খুঁজেছি পায়নি, দুই জায়গায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে আপত্তিকর প্রস্তাব করেছিল। সেখান থেকে এসে পড়ি। আর চাকরি খুঁজিনি। এদিকে সজিব আঙ্কেলের পাঁচ বছরের একটা মেয়েকে পড়াতাম। কিন্তু একদিন নিঝুম( আমার ছাএী) তাঁর মায়ের সাথে নানী বাড়ি চলে গেলে, তাঁর বাবা একাই থাকেন। আমি বাসায় গেলে সে সুযোগে, আমার সাথী অশ্লীল কাজ করতে চায় জোর করে। আমি কোনমতে সম্মান নিয়ে পালিয়ে আসি তারপর আর সেখানে যায়নি। হঠাৎ একদিন বোনটা স্কুল থেকে আসার পর সেন্সলেন্স হয়ে যায়, ব্যাথায়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে শুনতে পারি কিডনীর সমস্যা। ছয়মাসের মাঝে কিডনী প্রতিস্হাপন করতে হবে।নইলে ছোট বোনটা বাঁচবে না। এদিকে মা দুই বছর ধরে প্যারালাইস্ট হয়ে আছে। মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে ৪ হাজার টাকা লাগে। দিনে চারটা টিউশনি করায়।তা দিয়ে মায়ের চিকিৎসা আর সংসার বেশ চলে যেত। কিন্তু ইদানিং মায়ের অসুস্থতা বেড়ে যায়। সাথে বোনটা দিনদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে কালকের মাঝে হসপিটালে যদি দশহাজার টাকা না দিতে পারি, তাহলে মাকে বের করে দিবে। তাই বাধ হয়ে এ কাজে জড়িয়ে নিয়েছি। আর আমার শরীরে প্রথম স্পর্শ কারী আপনি। আজকের রাতের পর চিরদিনি আপনার নামটা হৃদয়ে ক্ষুধায় করা থাকবে। কারণ আপনাকে আমার সতিত্বটা প্রথম বিলিয়ে দিচ্ছি। এখন তো সব শুনলেন। এখন আপনি আমার গায়ে, পতিতার ছাপ লাগিয়ে দিতে পারেন, কোন আফসুস নাই। মা আর বোনের হাসির কাছে আমি শতবার নিজের সতিত্ব বিলিয়ে দিতে পারি। (কথা)
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ভাবছি, একটা মেয়ে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। হয়তো মেয়েটাকে না দেখলে বুঝতাম না।
আমি মেয়েটার কাছে যাচ্ছি, মেয়েটা চোখ বন্ধ করে আছে। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে প্রবেশ করছে। এক অপরুপ সৌন্দর্য মেয়েটার উপর এসে ভীড় করছে। অপলক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছি, মেয়েটার মাতাল করা চুলের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। আমি মেয়েটার অনেক কাছে এখন মেয়েটার নিঃশ্বাস আমার মুখে পড়ছে। মেয়েটা ভাবছে মেয়েটাকে লিপ কিস করবো, মেয়েটার ঠোঁট জোড়া কাপঁছে , চোখের কোণ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমি খপ করে মেয়েটার শাড়ির আচল'টা ধরে ফেললাম। মেয়েটার চোখ থেকে টুপ-টুপ করে পানি পড়তে লাগল।অামি শাড়ির আচল'টা টান দিয়ে মেয়েটার মাথায় তুলে দিলাম। ঘোমটাতে মেয়েটাকে অনেক সুন্দর লাগছে। মেয়েটার ঠোঁটের কোণে হাসি দেখলাম...
চলবে....

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,40,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,40,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,40,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: মেঘ রোদ্দুর পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ
মেঘ রোদ্দুর পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ
https://4.bp.blogspot.com/-8upIuoP1xi0/XKNxvB5U_QI/AAAAAAAAANg/3beDZVkGsSwAgNKUiriQKfFtnRssRymIgCLcBGAs/s1600/Logopit_1554186962106.jpg
https://4.bp.blogspot.com/-8upIuoP1xi0/XKNxvB5U_QI/AAAAAAAAANg/3beDZVkGsSwAgNKUiriQKfFtnRssRymIgCLcBGAs/s72-c/Logopit_1554186962106.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_76.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_76.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content