দৃষ্টির অগোচরে পর্ব - ০২ || জিসান আহম্মেদ রাজ

Jisan Ahmed Raj আপনারা মিষ্টি খাওয়ান! , মিঃ রাজ আপনার বউ মা হতে চলেছে"। ডাক্তারের কথা শুনে, থমকে গেলাম। নাহ্ এ হতে পারে ন...



Person Jisan Ahmed Raj

আপনারা মিষ্টি খাওয়ান! , মিঃ রাজ আপনার বউ মা হতে চলেছে"।
ডাক্তারের কথা শুনে, থমকে গেলাম। নাহ্ এ হতে পারে না। ফুলশর্য্যার আগেই বাবা হয়ে যাবো!কেউ স্বপ্নেই কল্পনা করেনা। পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। কথার সাথে আমার কখনো শারীরীক সম্পর্ক হয়নি! বুঝতে বাকি রইল না কথার গর্ভের সন্তান টা আমার না।কি এমন পাপ করেছিলাম, যার জন্য আল্লাহ্ আমার কপালে এমন কিছু রাখল।কথা কেন আমার সাথে এমন করলো! কথা তো আমাকে পাওয়ার জন্য কাঁদতো রোযা রাখতো! মাঝরাতে উঠে নামায পড়তো। না এ হতে পারে না। স্বপ্ন দেখছি না তো। কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে।
মা-বাবা কেমন করে যেন তাকাচ্ছে! নিজেকে তাদের কাছে ছোট মনে হচ্ছে!
রাজ এমন নষ্টা মেয়েকে নিয়ে আমার বাড়ি যাবি না। একা যদি যেতে পারিস যাবি। যে মেয়ে বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় তাকে সে আমাদের বাড়ির বউ হতে পারে না"।কথাটা বলে বাবা, রিত্ত আর মাকে নিয়ে চলে গেলো ।
কথার মা-বাবা মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কথার দিকে চেয়ে দেখি বেডে শুয়ে কান্না করছে। কথার চোখে জল দেখে নিজের অজান্তেই চোখে জল এসে গেল। বুকটা চিন চিনে ব্যাথা করছে। নিজের অজান্তেই চোখে অশ্রুকণা ভর করছে। কথা এখনো কাঁদছে আমি জানি এখানে থাকলে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না।
কথার মা-বাবাকে বললাম" আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। কথাকে দেখে রাখবেন" বলে বাসায় চলে আসলাম।
দুই দিনের মাঝে কথার কোন খুঁজ নেয়নি। সবাই জানে কথা নষ্টা মেয়ে। নষ্টা মেয়ের নামটা নেওয়াও পাপ।মনটা খারাপ লাগছে। এলাকার লোকে বলছে" রাজ কি বিয়ে করলো,বাসর রাতেই বাবা হতে যাচ্ছে"।এই সব বলে হাসি টাট্টা করে। বাবা আমার সামনে কিছু বলতেও পারে না!
নিজেকে খুব অসহায় লাগে, যাকে নিয়ে এতটা স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্নটা ভাঙা কাঁচের মতো টুকরো টুকরো করে দিলো।
রাতে শুয়ে শুয়ে কথার আগের সেই পাগলামী গুলো মনে করছি! হঠাৎ ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা বেঁজে উঠল। ফোনটা ধঁরতেই ওপাশ থেকে কেউ বলল" বাবা রাজ কাল একটু আমাদের বাসায় আসবে?"
কথাটা শুনে বুঝতে বাকি রইল না কথার বাবা ফোন করেছে। আঙ্কেলের অনুরোধে না করতে পারলাম না!
পরদিন সকালে নাস্তা করে, কথাদের বাসায় রওয়ানা দিলাম। বাসার নিতে যেতেই দেখতে পারলাম বেলকুণীতে খোলা চুলে দাঁড়িয়ে আছে কথা। একসময় কথার খোলা চুলগুলো দেখার কতবড় পাগল ছিলাম আজ অসহ্য লাগছে। মনে মনে ভাবছি চলে যায়, এ বাড়িতে আর নয়। পাপীটার মুখ দেখতে মন চাচ্ছে না! হঠাৎ আঙ্কেলের ডাক " বাবা আসছো তুমি? আমি জানতাম তুমি আসবে"।
ঘরের ভেতরে গিয়ে বসে আছি। কেউ কোন কথা বলছে না। কথা আমাকে দেখে অপরাধীর মতো রুমে চলে গেল।আমার সামনে কথার বাবা বসে আছে।
নীরবতা ভেঙে বললাম " কিছু বলবেন আঙ্কেল?"
বাবা তোমাকে কীভাবে যে বলি, তাঁরপরও বলতেই হবে। " জানো বাবা যেদিকে চায়, সেদিকেই সবাই আঙুল তুলে আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বলে নষ্টা মেয়ের বাবা যাচ্ছে! পারছিনা আত্মহত্যা করতে, আত্মহত্যা মহাপাপ না হলে হয়তো আত্মহত্যার পথই বেছে নিতাম! বাবা আমার মেয়েটা আজ তিনদিন ধরে একফোঁটা পানিও খাচ্ছে না। শুধু বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। জানো বাবা আমার মেয়েটা কাল গলায় দড়ি দিয়েছিল! তার মা যদি না দেখতো তাহলে, মেয়েটা মারা যেত। বাবা তো মেয়ের মৃত্যু দেখতে পারবো না বলে দরজা ভেঙে বাঁচিয়েছি। বাবা জানিনা বিয়ের আগে আমার মেয়ের তোমার সাথে কিংবা অন্য কারো সাথে শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে কিনা? সব আল্লাহ্ জানে। বাবা আমার মেয়েটার প্রাণ ভিক্ষা চায়। বাবা আমার মেয়েটাকে সব ভুলে তোমার পায়ের নিচে জায়গা দাও।
আঙ্কেল কি বলছেন? আপনি যাহ্ বলছেন ত্ কোনভাবেই সম্ভব না।( কথাগুলো দাঁতে দাঁত চেপে বললাম)
বাবা রাজ আমি তোমার পায়ে পড়ি, আমাকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করো! আমার মেয়েটাকে বাচাও।
আঙ্কেল কি করছেন আপনি?
আমি যাহ্ করছি, ঠিকই করছি। যেদিন তুমি বাবা হবে সেদিন বুঝবে কেন এমন করছি! বাবা আমার মেয়েটাকে মেনে নাও। বাঁচবে না আমার মেয়েটা!আর বাবা তোমাকে জোর করবো না। ঠিক করে নিয়েছে, লোকের মুখে ওমন কথা শুনার চেয়ে বিষ খেয়ে আমি আর তোমার আন্টি আত্মহত্যা করমু। আর পারছিনা! বাবা তুমি যদি এই বাড়ি থেকে কথাকে বউ হিসেবে তোমাদের বাড়ি নিয়ে না যাও তাহলে তুমি বের হওয়ার পর এই বিষ( বিষ দেখিয়ে) খেয়ে আত্মহুতি দিবো। ( কান্না করে দিয়ে)
আঙ্কেলের মুখের দিকে চেয়ে না করতে পারলাম না আর। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলাম!
আঙ্কেল চোখ মুছে খুশি মনে চলে গেলো। আঙ্কেল চলে গেলে, কথার রুমে গিয়ে ঢুকতেই অবাক হলাম রুম ভর্তি আমার ছবি।কথা বিছানায় শুযে কাঁদছে।নিজের অজান্তেই কথার মাথায় হাত রাখলাম! কথা আমার হাতের স্পর্শ পেয়ে কেমন যেন তাকালো! চোখ দুটি ফুলে গেছে। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। বুকের ভেতরটা হাহাকার করছে, কথাকে দেখে মনে হচ্ছে নিঃশ্বাপ একটা মেয়ে।কিন্তু এই মেয়েটায় আমার বিশ্বাসটাকে খুন করেছে।খুন করেছে আমার পবিএ ভালবাসাকে! তবুও কেন যানি দূরে সরে যেতে পারছি না।হঠাৎ কথা পায়ে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল" রাজ আমাকে ক্ষমা করে দাও!আল্লাহর কসম আমি কারো সাথে শারীরীক রিলেশন করিনি! কেমনে আমার গর্ভে সন্তান এলো সত্যি জানিনা। আমি তোমায় ভালবাসি নিজের থেকে বেশি! কিন্তু এখন তুমি কেন দুনিয়ার কেউ বিশ্বাস করবে না যে আমি নষ্ট না কারণ আমি জানি তোমার সাথে আমার কোন শারীরীক সম্পর্ক হয়নি! ( কথা)
কথার কথাগুলো বিষের মত লাগছে। তবুও আঙ্কেল কে বাঁচাতে কথাকে বুকে টেনে নিলাম।
সন্ধ্যায় কথাকে বাসায় নিয়ে গেলে, বাবা দুইজনকে দেখতেই ঠাস ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগল" তুই আমার সন্তান হয়ে আমার সম্মানের কথা এক বারো ভাবলি না? নষ্টা মেয়েকে আমার বাসায় আনলি!
"বাবা কথা নষ্টা না"কথাটা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাঁকালো আমার দিকে!!
"মানে কী বলছিস? তুই ঠিক আছিস"
মার মুখে এমন কথা শুনে ক্ষানিকটা অবাক হয়ে বলতে লাগলাম" মা আমার আর কথার মাঝে ১৫ দিন আগে দৈহিক সম্পর্ক হয়। প্রকৃত অর্থে কথাকে আমি একপ্রকার জোর করেই এসব করি! ওর কোন দোষ নেই, আমি বলেছিলাম এইসব যদি না করে আমি কথাকে বিয়ে করবো না! কথা বাধ্য হয়ে আমার সাথে নোংরামী করছে!
বাবা আমার গালে আবারো কয়েকটা কষে চড় বসিয়ে দিলো! যে বাবা কোনদিন আমাকে মারেনি, সে বাবা আজ আমার গালদুটি লাল করে ফেলেছে। বিনা অপরাধে। বাবা কথাকে নিয়ে রুমে যেতে বলে চলে গেল।
রাতে শুয়ে আছি, হঠাৎ কথার কান্নার আওয়াজ পেলাম! আমি বিছানা ছেড়ে ফ্লরে গিয়ে দেখি ফুপিয়ে কাঁদছে!
এই কথা কাঁদছো কেন? কথা আমার কথাটা শুনে পা দুটো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল" তুমি সত্যি মহান, তোমার পায়ের নিচে আমাকে জায়গা দাও! একটা মানুষ এতোটা কষ্ট কেমনে লোকাতে পারে? আমার সব অপরাধ, অপবাদ তুমি নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলে,! সত্যি নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে যে তোমার মতো একটা স্বামী পেয়েছি। তুমি আরেকটা বিয়ে করো, তবুও আমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিয়ো না! আমি তোমার কাছে কখনো স্বামীর অধিকার চাইবো না! দাসী হয়ে এ বাড়ি থেকে লাশ হয়ে বের হতে চায়! দিবে কী অধিকার টা?
আচ্ছা কান্না করোনা। এখন ঘুমাও! আর অনেক শীত ফ্লরে না শুয়ে বিছানায় এসো। কথা মাথা নাড়িয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল! সকালে ঘুম থেকে উঠতেই দেখি, কথার মাথাটা আমার বুকে, চুলগুলো এলোমেলো।মনে হচ্ছে অপর্সী। হঠাৎ সাথীর ফোন। সাথী আমার অনেক ক্লোজ ফ্রেন্ড, সাথীকে ডাক্তার। সাথীকে কথার ব্যাপারে বলেছিলাম যে কথার এভারশন করাবো!
কিরে তোরা কখন আসছিস? ( সাথী)
আসতেছি ৩০ মিনিটের মধ্যে।
শোন তোর সেকেন্ড বউটার জন্য, চকলেট নিয়ে আসবি!
সাথীর কথার হেসে উওর দিলাম" আচ্ছা ছোটবেলার বউ জামাইয়ের কথা তোর এখনো মনে আছে?"
"হ্যাঁ"আছে তো!
আচ্ছা তুই থাকিস আসছি চেম্বারে। মনে মনে ভাবলাম, কথাকে কষ্ট দিবো,সাথীর সাথে ওর বয়ফেন্ডের মতো আচরণ করবো।
কথাকে নিয়ে বিকেলে হসপিটালে নিয়ে গেলাম।এভারশন করানোর আগে কথার ডিএন এ চেক করালাম। আর সাথীকে বললাম, "দেখ তো কথার কার সাথে, শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে তাঁর ডিএন.এ বের করতে পারিস কিনা?
সাথী কিছুক্ষণ পর আমার কিছু টেস্ট দিলো! কথা যানে না কথাকে কেন নিয়ে এসেছি।
এদিকে রির্পোট নিয়ে সাথী কেমন যেন মাথা ধরে বসে আছে!
ওই সাথী কি হয়েছে?
আমি ভাবতে পারছিনা,! কথার শারীরীক সম্পর্ক তোর সাথে হয়েছা। রির্পোট থেকে বুঝা যাচ্ছে কথার গর্ভে তোর সন্তান। আর তুই বলছিলি কথার সাথে তোর কোন শারীরীক সম্পর্ক হয়নি।
সাথীর মুখে এমন কথা শুনে মাখাটা ঘুরতে লাগল। আমি তো করিনি কোন শারীরীক সম্পর্ক কথার সাথে। সব কিছু ধাঁধার মতো লাগছে! কথার হাত ধরে বললাম! তুই না আমার বউ রির্পোট'টা আবার দেখ কোথায় ভুল হচ্ছে না তো। কারল কথার অশ্লীল ভিডিও দেখেছি!
সাথী আমার হাতে হাত রেখে বলল" আরে দুষ্ট জামাই, আমি দেখছি বিষয়টা!
এদিকে কথা রুমে ঢুকেই শুনে ফেলল" আরে আমার দুষ্ট জামাই আমি দেখছি বিষয়টা"সাথীর কথাটা শুনে কথা চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে গেল। আমি আর কিছু বললাম না, কারণ নষ্ট মেয়েদের কাছে এসব ব্যাপার না! তবে একটা জিনিস বুঝতেছি, কথার সাথে শারীরীক সম্পর্ক করেনি। তাহলে রির্পোটে কেন দেখাচ্ছে শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে কথার সাথে আমার। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা।
এদিকে কথা ভাবছে,রাজ আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করল! আমাকে জানালে কি হতো?কথার নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসলো" প্লিজ ম্যাসেন্জারে গিয়ে দেখেন, আপনার স্বামী কতটা মহান"! কথা তাড়াহুড়া করে, ম্যাসেন্জারে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল" রাজ কে সে অনেক ভালো ভাবত, সেই রাজই কিনা, ডাক্তার মেয়েটার সাথে অশ্লীল কাজ করছে! কথার নিজের অজান্তেই বুক ফেঁটে কান্না আসছে! কথা হঠাৎ দেখলো " যা দেখার মোটেই প্রস্তুত ছিল না" ডাক্তর সাথীকে ..
চলবে...

COMMENTS

BLOGGER: 2

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,31,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,31,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,31,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: দৃষ্টির অগোচরে পর্ব - ০২ || জিসান আহম্মেদ রাজ
দৃষ্টির অগোচরে পর্ব - ০২ || জিসান আহম্মেদ রাজ
https://1.bp.blogspot.com/-0i-sljpWrLo/XH5u5P4lhuI/AAAAAAAAAFY/mdvL--t9Sj8yJsbC-p28XlTH5kRq708JwCLcBGAs/s1600/Logopit_1551628783215.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-0i-sljpWrLo/XH5u5P4lhuI/AAAAAAAAAFY/mdvL--t9Sj8yJsbC-p28XlTH5kRq708JwCLcBGAs/s72-c/Logopit_1551628783215.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_5.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_5.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content