শশুরবাড়ি পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী

Hridoy Chawdhury হিয়া এয়ারিং খুজতে খুজতে হঠাৎ পিছনে ফিরতেই আমার বুকের সাথে ধাক্কা খেলো.. আমি আচমকা শক খেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম.. ...


Hridoy Chawdhury
হিয়া এয়ারিং খুজতে খুজতে হঠাৎ পিছনে ফিরতেই আমার বুকের সাথে ধাক্কা খেলো.. আমি আচমকা শক খেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম..
হিয়াও ধাক্কা খেয়ে প্রথমে চোখ বন্ধ করে কপালে হাত বোলাতে বোলাতে আমার দিকে চোখ মেলে তাকালো.. ভ্রু কুচকে ও আমার উদ্দেশ্যে বললো,
-ইশশ! কিডনির বাচ্চা.. আর কয়বার সংঘর্ষ ঘটাবেন! দেখে চলতে পারেন না?
আমার মেজাজ গরম হয়ে গেলো.. হিয়াকে হেচকা একটা টান দিয়ে আমার বুকের সাথে মিশিয়ে ওর হাতটা পেছনে চেপে ধরলাম,
-স্টুপিড! আ'ম হৃদয়! নট কিডনির বাচ্চা ওকে! তোমার নিজেরই চোখ নেই, আবার অন্যকে কথা শোনাও..
হিয়া হকচকিয়ে তাকালো আমার দিকে.. কয়েক সেকেন্ড হা করে থেকে একটু বাদেই একটা চিন্তা আর বিরক্তির চেহারায় আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো,
-ধ্যৎ! এমনিতেই ভালো লাগছে না, আমার ফেভারিট দুলটা হারিয়ে গেছে.. আর উনি!
আমি কিছুটা ছিটকে পড়ে যেতে যেতে বাচঁলাম.. আমার হাতের গাঁদা ফুলের পাপড়িগুলো পড়ে গেলো..
হিয়া আমাকে পাত্তা না দিয়ে একমনে মুখ ভেংচিয়ে এয়ারিং খুজতে লাগলো..
কিন্তু বিয়েবাড়ির এই ভিড়ের মধ্যে একটা কানের দুল খুজে পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য.. হেল্প করার জন্য আমিও ওর সাথে সাথে খুজতে লাগলাম..
কানের দুলটা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুজার পরেও যখন পাওয়া গেলো না, তখন হিয়া হতাশ হয়ে দুই কোমরে হাত গুজে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো,
-ধুউর...
হিয়া চেহারায় একটা মলিনতার ছাপ নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছিলো.. তখনই আমার নজরটা ওর শাড়ির আচলের দিকে গেলো.. আমি পেছন থেকে ওর আচল ধরে আটকে ফেললাম ওকে..
হিয়া বাধা পেয়ে আৎকে উঠে পেছন তাকালো.. আমার হাতে ওর শাড়ির আচল দেখতেই ও তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো,
-অইইই! কিডনির বাচ্চা! আপনার সাহস কী করে হয় এভাবে আমার আচল ধরার! তখনও আচলে পা রাখলেন, আর এখনও হাত! জানেন এখন যদি আমি একটা চিৎকার দেই, তাহলে কি কি হতে পারে!
হিয়ার চোখ রাগে একদম লাল হয়ে গেলো.. আমি একদম বেকুব হয়ে গেলাম.. বাজে কোনো মাইন্ডে তো আমি ওর আচল ধরি নি.. এটা বোঝানোর জন্য ওর আচলটা হাতে রেখেই কড়া গলায় বললাম,
-আরে! রূপে তো অনন্যা.. তাহলে ব্যবহারে করলার রস কেন...!
-আজব! আপনি আমার আচল ধরবেন, আর আমি কিছু বললেই করলার রস!
-এই দেখো! এমন কিছুনা... না বুঝেশুনে চেচাবে না.. ওকে!
হিয়া আবারো একটা রেগে একটা চিৎকার দিতে চাইলো.. কিন্তু আমি সেটার সুযোগ না দিয়ে ওর একটু নিকটে গিয়ে মুখটা চেপে ধরলাম,
-স্টুপিড! একদম রাগ দেখাবে না.. তোমার এয়ারিং টার জন্যই ধরেছি এভাবে..
হিয়া কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে.. আমি একটু বিরক্তি নিয়ে ওর মুখটা ছেড়ে চুপ থাকার ইশারা দিলাম.. তারপর ওর শাড়ির আচলটা ওর সামনে তুলে ধরে হারিয়ে যাওয়া এয়ারিংটা দেখালাম..
ও এয়ারিংটা দেখে চমকে উঠলো.. সাথে একটা খুশির হাসিও দিলো,
-আরে! এয়ারিংটা খুলে শাড়ির আঁচলেই আটকে ছিলো.. আর আমি খেয়াল ই করি নি এতোক্ষণ..
-সেটা খেয়াল করানোর জন্যই তো আঁচলটায় ধরেছিলাম.. নাথিং এলস্!
-ওহহ্ সরি সরি.. ভুল বুঝলাম.. থ্যাংক ইউ সো মাচ...
কথাটা বলে হিয়া খুশিতে আমার নাকে একটা টান দিলো.. ওর চোখের রাগ সব হারিয়ে গেছে.. আমিও একটা হাসি দিয়ে এয়ারিংটা হাতে নিয়ে হিয়াকে দিলাম..
হিয়া এয়ারিংটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলো ডান কানে.. কিন্তু ওর যেন পড়তে একটু প্রবলেম হচ্ছিলো.. আমি ওর এয়ারিং পড়াটাই খেয়াল করছিলাম.. এখন ও পারছে না দেখে আমি এগিয়ে গেলাম ওর দিকে,
-আমি হেল্প করি?
হিয়া ডান কানে দুহাতে এয়ারিংটা ধরে আমার দিকে একটু অবাক হয়ে তাকালো.. তারপর কিছু একটা ভেবে হালকা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো..
হিয়া একটা ঢোক গিলে আড়চোখে তাকিয়ে আমার হাতে এয়ারিংটা দিলো.. আমি এয়ারিংটা হাতে নিয়ে হিয়ার ডান দিকে গিয়ে দাড়ালাম.. অতঃপর হিয়ার ডান কানের লতিতে ধরে ধীরে ধীরে দুলটা পড়িয়ে দিচ্ছিলাম.. আমি দুল হাতে হিয়ার কানে প্রথম স্পর্শটা রাখতেই ও কিছুটা কেপে চোখ অর্ধেক বন্ধ করে নিলো..
আমি ওর সেই রিয়েকশনের চেহারাটা আর কানের দিকে তাকাতে তাকাতে দুল পরানোটা সেরে নিলাম..
হিয়া আমার দিকে হালকা লজ্জার দৃষ্টিতে তাকিয়ে নজর নিচু করে আবারো ধন্যবাদ জানালো.. আমি চেয়েও কিছু বলতে পারলাম না.. শুধু হৃদয়ে একটা অজানা দোলা অনুভব করলাম..
হিয়া আমার দিকে একপলক তাকিয়ে মৃদু হাসি এনে আবার কুঞ্জের দিকে বিয়ে দেখায় জয়েন করলো.. আমিও একটা হাসি দিয়ে ওখানে এটেন্ড করলাম..
খুব সুষ্ঠুভাবে আনন্দ ফুর্তিতে দাদাভাই আর দিবা বউদির বিয়েটা সম্পন্ন হয়ে গেলো.. রাতে বর কনে বিয়াই বিয়াইন দু পক্ষের সবাই মিলে অনেক আড্ডা আর মজা করলাম.. ওভাবেই কাটলো রাতটা.. শেষ রাতের দিকে সবাই ই আড্ডায় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো..
পরদিন সকাল থেকেই কনের বাড়িতে হৈচৈ.. মেয়ে এবার বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে প্রস্থান করবে.. কতো কোলাহল কান্নাকাটির মাঝে মেয়েকে বিদায় দেওয়া হলো..
বউদিকে নিয়ে নৌকায় উঠলাম আমরা.. সাথে বউদির কয়েকজন রিলেটিভস- ভাই, মামা, হিয়া, ফ্রেন্ড এমনই কয়েকজনও ছিলো..
বর বউকে নৌকার ভেতরে বসানো হলো.. সাথে ওদের ফ্রেন্ডরা আর কয়েকজন রিলেটিভস.. আর নৌকার ছাদের উপর আমরা ভাই বোন আর ফ্রেন্ডরা ছিলাম.. হিয়াও ছিলো সাথে..
আমি উপরে গিয়ে একদম মাঝি ভাইয়ের কাছে বসলাম.. আর বাদ বাকিরা সব আড্ডা দিচ্ছিলো নৌকায়.. একটু পর আমি মিনি সিড়ি দিয়ে উপর থেকে নেমে নৌকার পেছনের প্রান্তে নামলাম..
ওখানে একাকী দাঁড়িয়ে হাওড়ের মনোরম শীতল বাতাসটা উপভোগ করছিলাম..
দুহাত বাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে একটা জোরে নিঃশ্বাস নিলাম.. হাওড়ের বিশাল জলরাশির স্মেলটার সাথে সাথে অনেক শীতল হাওয়া যেন আমাকে ছুয়ে ছুয়ে যাচ্ছিলো..
নৌকার এ প্রান্তে একাকী খুব নিরব হয়ে একমনে ফিল করছিলাম এগুলো.. হঠাৎ ই সিড়িতে কারোর পায়ের শব্দ শুনে পেছন ফিরলাম..
তাকাতেই দেখলাম হিয়া ধীরে ধীরে সিড়ি দিয়ে নামছে.. আমি একটা হালকা হাসি দিয়ে ওর দিকে ঠিক হয়ে দাড়ালাম..
ও নামতে নামতে ওর ভ্রু নাচিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
-তো মিস্টার কিডনি.. এখানে কী করছেন শুনি..
-ঐ! তুমি আমাকে কিডনি বলো কেন হ্যা.. আমার নাম হৃদয় ওকে!
-হ্যা তো কিডনি ই তো বললাম....
-ইইইই!!! কিডনি না... হৃদয়য়য়....
আমি একটা ধমকের সুরে ডিস্টার্বড লুকে তাকালাম হিয়ার দিকে.. হিয়া দুষ্টু মার্কা হাসি দিতে লাগলো.. আমার সহ্য হচ্ছিলো না.. আমার নাম নিয়ে মজা কেন করবে! ও আবারো হাসতে হাসতে বললো,
-ওকে ওকে কিডনি ই তো বলবো...
বলেই ও হাসতে শুরু করলো আবার.. আমি রাগে আচমকা ওকে ডান হাতে হেচকা একটা টান দিয়ে ধরে নৌকার বাইরের দিকে ঠেলে দিলাম.. ওর পা দুইটা নৌকাতে থাকলেও, সারা শরীর নৌকার বাইরে.. আমি হাতটা ছাড়লেই ধপাস করে হাওড়ে হাতড়াতে থাকবে...
হিয়া টান দেওয়ার সাথে সাথে চিৎকার শুরু করে দিয়েছিলো.. হাওড়ের বাতাসে যদিও সেটা অন্যদের কাছে অতো স্পষ্ট লাগছিলো না.. হিয়ার কান্নাপ্রায় অবস্থা হয়ে গেলো.. ও চোখ বন্ধ করে কান্না কান্না গলায় বলতে লাগলো,
-ঐ ঐ! আমি সাতার জানিনা প্লিজ... ভয় করছে আমার হৃদয়ের বাচ্চা প্লিজ তুলো...
-উহু... ছেড়ে দেবো হাতটা...
বলে ধীরে ধীরে হাতটা ঢিলা করতে লাগলাম.. যতই হাত একটু একটু করে আলগা করছিলাম, ততোই হিয়ার চোখে মুখে ভয় আতঙ্ক কান্নার মতো অনেক ছাপ ফুটে উঠছিলো.. ও চোখ বন্ধ রেখেই আমাকে চেচিয়ে হাত না ছেড়ে তুলে নিতে বলছিলো..
.
.
(চলবে)

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,31,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,31,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,31,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: শশুরবাড়ি পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী
শশুরবাড়ি পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী
https://2.bp.blogspot.com/-YphWQm-YHHQ/XI5euFXzFII/AAAAAAAAAKg/JeiuF_cCCuYmWnKhgRZ7SwOaQ0wCmTTMwCLcBGAs/s1600/Logopit_1552824888619.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-YphWQm-YHHQ/XI5euFXzFII/AAAAAAAAAKg/JeiuF_cCCuYmWnKhgRZ7SwOaQ0wCmTTMwCLcBGAs/s72-c/Logopit_1552824888619.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_3.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_3.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content