প্রত্যাবর্তন পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ

Jisan Ahmed Raj "১৮ বছরের এক কিশোরী মেয়েকে গণধর্ষণ করে জঙলের পাশে অর্ধ নগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় একদল নরপিশাচ ধর্ষকেরা। ...



Person Jisan Ahmed Raj
"১৮ বছরের এক কিশোরী মেয়েকে গণধর্ষণ করে জঙলের পাশে অর্ধ নগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় একদল নরপিশাচ ধর্ষকেরা। "
টেলিভিশনে খবরটা শুনে টিভির দিকে তাকাতেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে! বিয়ের জন্য কেনা নীল পাড়ের তাঁতের শাড়িটা হাত থেকে পড়ে যায়। আমার চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরতে লাগল।
কারণ টেলিভিশনে যে মেয়েটাকে দেখাচ্ছে সে অন্য কেউ না, আমার ভালবাসার মানুষ। যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছি।
সামনে শুক্রবারে কথার সাথে আমার বিয়ে। আজ সেই ভালবাসার মানুষটিকে পুরুষ নামে কিছু পশু নষ্ট করেছে। বুক ফেঁটে কান্না আসছে।
আমি পরের দিনই, আমাদের বাড়িতে ফিরি।
বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এলাকার লোকদের কাছে শুনতে পায়। এলাকার সকল লোকে কথাকে বের করে দিতে চাচ্ছে !নষ্টা কোন মেয়েকে এলাকায় কেউ জায়গা দিবে না।
কথা একটা পাপী মেয়ে। একজন ধর্ষিতাকে জায়গা দেওয়া মানে, নিজের গ্রামের সম্মান নষ্ট করা। পুলিশ শুধু মুখে বলে যাচ্ছে এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবে।
আমি গ্রামে এসে আর বাসায় যায়নি।
সরাসরি কথাদের বাসায় উদ্দেশে চলে যায় । কথাদের বাসায় যেতে একটা বন পাড়ি দিতে হয়। বনটা পাড়ি দিতেই ভয়ে চুপসে, যাই আমি । ভূতের মতো কিছু দৌঁড়ে যাচ্ছে, ভূতুরে বটগাছটার দিকে।
ছোটবেলা শুনেছি,সেখানে নাকি রাক্ষসী থাকে। আমি অনুমান করতে পাচ্ছি, একটা মেয়ের মতো দেখা যাচ্ছে। বটগাছটা আমার থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে। বটগাছের নিচে গিয়ে মেয়ে না ভূত যাই কিছু হোক দাঁড়ালো।
আমি মনে মনে স্থির করে নিলাম, দেখি জীবনে ভূত দেখিনি আজ দেখবো। যেই ভাবা সেই কাজ লুকিয়ে লুকিয়ে গাছের কাছে যেতেই যা দেখলাম, তা দেখার একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। গাছের নিচে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে সেটি অন্য কেউ না কথা। আমার ভালবাসার মানুষ।
বুকটা কেঁপে ওঠলো যখন দেখলাম ফাঁসির দড়ি কথা গলায় দিচ্ছে। দৌঁড়ে গিয়ে, কথাকে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগলাম" একি করছো তুমি, তুমি জানো না, আত্মহত্যা মহাপাপ?
কে আপনি আমাকে কেন মরতে দিচ্ছেন না?
আমি বেঁচে থেকে কি করবো? আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন ৭ জন মিলে সারারাত আমার শরীরটাকে হিংস্র জানুয়ারের মতো ভোগ করেছে। ছেড়ে দেন আমাকে, আমি আর বাঁচতে চায় না!
ঠাস-ঠাস-ঠাস, করে চড় বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগলাম "লজ্জা করে না মরার কথা বলতে, আমি কি মরে গেছি। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? আমি যে তোমাকে ভালবাসি। বড্ড বেশি ভালবাসি। আমি তো তোমার দেহটাকে ভালবাসিনি! আমি ভালোবেসেছি তোমার ওই পবিএ মনটাকে! এই পাগলী কাঁদছো কেনো? চোখের পানি মুছে ফেলো" ( আমি)
রাজ প্লিজ আমার মতো ধর্ষিতাকে ভালবাসার কথা মুখেও নিয়ো না! আমি চাইনা তোমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাক। তোমাকে দেওয়ার মতো আজ নেই যে কিছু আমার। সবাই আমাকে নষ্টা মেয়ে নাম দিয়েছে, জানো খুব স্বপ্ন দেখেছিলাম, লাল বেনারশী দিয়ে, সারা শরীর জড়িয়ে নিবো, আলতা দিয়ে পা'টা রাঙিয়ে নিবো, দু'হাত ভরে মেহেদী সাজে তোমার বউ হয়ে যাবো কি থেকে কি হয়ে গেল! ভেবেছিলাম, তোমায় বুকে ঠাঁয় পাবো! কিন্তু আমার ঠাঁয় হবে হয়তো কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো, আমাকে মরতে দাও!
মরবে? তাহলে মরো তবে এক দড়িতে দু'জন। তুমি যে আমার জীবন। তোমাকে কেমনে মরতে দিতে পারি? এই বুকটাতে একটু কান পেতে শুনো আমার প্রতিটা হৃদয়ের স্পর্দন তোমার নাম বলে! আমি তো তোমার শরীরকে নয় তোমার মনকে ভালোবাসি। মনটা দিয়ে আমায় ভালবেসো আমার আর কিছুই লাগবে না।
একটু বুকে আসবে, কথাটা বলার সাথে সাথেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে কথা আমায়! এই কথা কাঁদছো কেন? আমার বুকে আসলে কি তোমার কষ্ট হয়?
আমার কথাটা শুনে কথা আরো জোরে ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল!
কান্না করতে করতে বলতে লাগল" তোমার বুকটা যে আমার সুখের ঠিকানা, " জানো রাজ, পরশুদিন সন্ধ্যাবেলা যখন কোচিং করে বাসায় ফিরছিলাম! তোমার সৎভাই রাফি, আর তাঁর বন্ধুরা মিলে, পাশের পুড়াবাড়িতে নিয়ে যায়! তাঁর পর হিংস্র প্রাণীর মতো থাবা দিয়ে আমার বস্ত্র খুলে নেয়! মানুষ এতোটা নিষ্ঠুর কিভাবে হয়? আমি বলেছিলাম" তোমরা তো জানো, জন্ম নেওয়ার পর বাবা মারা গিয়েছে এতিম করে। অন্যদিকে মা টাও আমাকে ফেলে চলে যায়। আপন বলতে কেউ নেই আমার, প্লিজ তোমরা আমার ভাই হও, তোমাদের বোনের ইজ্জতটা ভিক্ষা দাও! আমার মতো এতিমের সম্মানটা তোমাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি! প্লিজ ভিক্ষা দাও, তোমাদের বোন মনে করে ছেড়ে দাও!সারাজীবন তোমাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। প্লিজ যেতে দাও না ভাইয়ারা আমাকে। আমাকে খুন করে ফেলো তবুও আমার সম্মানটা ছিনিয়ো নিয়ো না! জানো সেদিন দেখেছি, নরপিশাচ দের রক্তচক্ষু, হৃদয় কাঁপানো হাসি! অট্রহাসি দিয়ে বলেছিল, সবাই যদি বোন হয় বউ হবে কে! দুজনে আমার হাত পা চেপে ধরে একজনে বুকের উপর উঠে, উড়নাটা সড়িয়ে ফেলে, আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ো যাচ্ছে। তাঁরা পালাক্রমে একের পর এক ধর্ষণ করে! জঙলের পাশে ফেলে রেখে যায়! পুলিশকে বলার পরও পুলিশ কিছু করেনি! আমি হাঁটতে পারিনা! আমার স্তনটাও ঘায়েল করে ফেলেছে!
তাই বলছি, তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নাও! আমার কোন অভিযোগ থাকবে না!
হুম বিয়ে করবো তো! চলো কথাটা বলে রাতেই কাজি অফিসে নিয়ে কথাকে বিয়ে করে ফেলি! কত শুধু বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর কাঁদছে। আমি কথার হাতটা শক্ত করে ধরলাম!
.মা মা কোথায় তুমি?
শুনেছো, পাশের গ্রামে যে মেয়েটাকে রাফি ভাইয়া আর তাঁর বন্ধুরা ধর্ষণ করেছিল, রাজ যাকে ভালবাসতো, আমাদের দ্বিমতে বিয়ে করতে চেয়েছিল, সে মেয়েটাকে টিভিতে দেখিয়েছে।
জানতাম এমনি কিছু হবে, সারা এলাকা টয় টয় করে ঘুরে, এমন খারাপ মেয়ের খারাপই হবে। আর রাফিকে কি দোষ দিবে, এ বয়সে ছেলেরা একটু - আকটু এমন করবেই।
কই গো, রাফির মা। তোমার ছেলে কি করেছে, থানা ম্যানেজ করে আসলাম। তোমার ছেলে কি করে এসব! কি শেখাইছো ছেলেকে। কয়েকদিন সাবধানে থাকতে বইলো। নইলে পরে তোমার কান্না শুনতে পারবো না। ( বাবা)
আমি দরজার দাঁড়িয়ে স্পর্ষ্ট শুনতে পেলাম বাবার মুখে এ কথা! হঠাৎ, মা চেঁচিয়ে বলে ওঠলো" কি করেছে এমন, ভালো লাগছে তাই করেছে। আমাদের কি টাকা পয়সা কম আছে? ছেলে একটু ফূর্তি করেছে, সেজন্য এমন করতে হবে। আর মেয়েটা ইচ্ছা করেই এমন করেছে। খারাপ বেশ্যা মেয়ে একটা সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। আর তোমার অকর্মা ছেলেটা নাকি নষ্টা মেয়েকে ভালোবাসে, তাকে নাকি বিয়ে করবে। শোন ওই নষ্টা মেয়েকে যদদি বিয়ে করে, আমি আর এ বাড়িতে থাকবো না। অকর্মা, ছেলেটা তাঁর মাকে খেয়েছে, এখন আমার জীবনটা নরকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। মা'টা যেমন চরিএহীনা ছিল, তেমন একটা চরিএহীন ছেলে জন্ম দিছে।
কথার দিকে তাঁকিয়ে দেখি কাঁদছে। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে দরজায় নর্ক করলাম।
দেখতো জান্নাত কে এসেছে! ( সৎ মা)
জান্নাত, দরজাটা খুলেই, হাতে থাকা পানির গ্লাসটা ফ্লরে ফেলে দেয়। মা দেখে যাও, বাড়িতে পতিতাকে নিয়ে এসেছে বিয়ে করে,
চলবে.....

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,39,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,39,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,39,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: প্রত্যাবর্তন পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ
প্রত্যাবর্তন পর্ব - ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ
https://2.bp.blogspot.com/-2fNq3Wwnhak/XKNwcHc5TcI/AAAAAAAAANU/pOcv3SCL4L8LMUeG26Gq-xXb3az90u9kwCLcBGAs/s1600/Logopit_1554186554069.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-2fNq3Wwnhak/XKNwcHc5TcI/AAAAAAAAANU/pOcv3SCL4L8LMUeG26Gq-xXb3az90u9kwCLcBGAs/s72-c/Logopit_1554186554069.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_25.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_25.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content