ধোকা পর্ব - ০৩ || হৃদয় চৌধুরী

Hridoy Chawdhury আমি কোলে করে নিয়ে ইশাকে ধীরে ধীরে বেডে শোয়ালাম.. অতঃপর আমিও ওর উপর হালকা শুয়ে ওর মুখের সামনের চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছিল...


Hridoy Chawdhury
আমি কোলে করে নিয়ে ইশাকে ধীরে ধীরে বেডে শোয়ালাম.. অতঃপর আমিও ওর উপর হালকা শুয়ে ওর মুখের সামনের চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছিলাম..
ইশা অজানা এক অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে.. আমি ওর ডান কানের নিচে ধরে আস্তে আস্তে আমার মুখটা ওর দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম..
ইশার বাম গালে আলতো করে আমার ঠোটটা ছুয়ে দিয়ে একটা চুমু খেলাম...
ইশা চোখ বন্ধ করে ডান দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো.. আমি চুমু খেয়ে ওর দিকে তাকালাম..
আমার গরম নিঃশ্বাসটা ওর বাম কানের দিকে পড়ছে..
ইশার বাম হাতের উপর আমার ডান হাতটা ছড়িয়ে ওর আঙুলগুলো আকড়ে ধরলাম..
আমার বাম হাতটা ওর গলায় আলতো করে রেখে আমার ঠোটটা ওর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম..
হঠাৎই ইশা আমাকে একটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বেড থেকে উঠে গেলো..
শাড়ি ঠিক করতে করতে ও আমার উদ্দেশ্যে বললো,
-হৃদয় ভালো লাগে না এসব প্লিজ!
ওর এমন বিহেইভে আমি একদম অবাক হয়ে গেলাম.. এমন কিছু একদম ই আনএক্সপেক্টেড ছিলো আমার..
-ইশা! কী হলো তোমার..
-ঘুমাও..
-একটু আদরও করতে পারিনা তোমায়! তোমার বিহেইভিয়ার গুলো ইদানীং এতো চেঞ্জ কীভাবে হচ্ছে!
-কিছুই হচ্ছে না হৃদয়... ঘুম পাচ্ছে.. গুড নাইট..
-Ok Fine ঘুমাও!
ঐরাতে দুজন দু'পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম.. কার মনে যে কি চলছিলো, কিছুই ঠাওর করতে পারছিলাম না...
পরের দিন সকালেই ইশাকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি আমি.. তবে ঐদিনও পুরোটা দিন ইশার সাথে তেমন কোনো কথা হয় নি..
.
নেক্সট দিন অফিসে যাওয়ার জন্য বের হতেই দেখলাম, প্রীতম সুজিত দার এক বছরের ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে হেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে..
প্রীতম আমার জেঠাতো ভাই.. একই সাথের আমরা.. জাস্ট ও কয়েকদিনের ছোট আমার..
মাস দুই দেড়েক হলো বিদেশ থেকে ফিরেছে.. তারপর কয়েকদিন ঘোরাফেরা এখানেই একটা ব্যবসা দাড় করিয়েছে..
ও আমাকে দেখেই সুজিত দার ছোট ছেলে অন্তুকে আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললো,
-আলে.. ছোত কাক্কু.. অফিস যাবে ছোত কাক্কু, তালপল এত্তো এত্তো চকলেত আনবে তোমাল দন্য.. তাতা দাও তাতা...
অন্তু আমাকে
আমি হাসতে হাসতে অন্তুর দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে টাটা দিলাম..
প্রীতম ওর হাত ধরে টাটা দেওয়ালো.. তারপর আমার উদ্দেশ্যে বললো,
-কখন ফিরবি?
আমি হেলমেটটা পড়তে পড়তে বললাম,
-এইতো ধর্ সন্ধ্যার দিকে..
-ওহ্ আচ্ছা..
-রাতে বাজারে যাবো একসাথে... রেডি থাকিস..
-আচ্ছা..
আমি বাইকটা স্টার্ট করে আরেকটা বার অন্তুর দিকে তাকিয়ে টাটা দিয়ে চলে গেলাম...
.
অফিসে Lunch Time হয়ে গেলো.. ইশার সাথে কথা বলার জন্য ফোনটা হাতে নিলাম..
ফোনটা নিয়ে স্ক্রিনে কিছুটা বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকালাম আমি.. এমনিতে তো এমন সময় আগে নোটিফিকেশনে ইশার বেশ কয়েকটা মিসড কল থাকতো..
দুপুর হয়ে গেলো, অথচ কোনো কল ই দেয় নি!
ইশা কোনো ফোন দিচ্ছে না দেখে নিজেই কল দিলাম ওকে..
বেশ কয়েকবার রিং হলো ফোন, কিন্তু ইশা রিসিভ করলো না.. কি ব্যাপার! সাইলেন্ট নাকি ফোন..
ইশা ফোন ধরছে না দেখে তিতুকে ফোন করলাম,
-কিরে, তোর বউদি কই?
-ভাই বউদি তো বাসায়.. আমি প্রাইভেটে আছি এখন..
-অহো! কখন যাবি বাসায়?
-কোচিং টোচিং শেষ করে যাবো.. একদম বিকেলের পর..
-আচ্ছা রাখি তাহলে.. সাবধানে আসিস..
-আচ্ছা..
ফোনটা রেখে ইশার কথা ভাবতে লাগলাম.. ফোন রিসিভ করছে না যে, কী হলো! এভাবেই Lunch Time টা কেটে গেলো..
ইশা ফোনের ধারে কাছেও এসেছে বলে মনে হলো না..
আচ্ছা কোনো কাজে Busy আছে মনে হয়.. হাতের কাছে ফোন নেই হয়তো..
এইটা ভেবে আবার অফিসের কাজে মনোযোগ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম..
টিফিন ক্যারিয়ারটা অবহেলায় ডেস্কের এক কোণে পড়ে আছে... ঐদিন ইশার কথা ভাবতে ভাবতে আর Lunch করা হয়নি..
.
বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো.. শীতের মধ্যে এমন মেঘলা দিন মোটেও চিন্তা করা যায় না.. কিন্তু ইদানীং আবহাওয়ার একইসাথে এত্তো পরিবর্তন দেখে অবাকটা হতেই হয়..
বৃষ্টি দেখে ইশার কথা আরো বেশি মনে পড়ছিলো.. কিন্তু ওর কি আদৌ আমার কথা মনে পড়ছে? একটা কল বা মেসেজও তো দিলো না এখন পর্যন্ত...
অফিস থেকে এক কলিগের বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো.. কিন্তু দুপুরের ইশার কথাটা ভেবে আর যেতে ইচ্ছা করলো না..
কলিগকে ইনফর্ম করে বাসার দিকে রওনা দিলাম..
.
অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তায় দেখলাম, এক ছাউনির নিচে পলক দাঁড়িয়ে আছে.. আমি দেখতে দেখতে ওর সামনে গিয়ে বাইক থামালাম আমি,
-এই বৃষ্টিতে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছো?
-টিউশন ছিলো.. এখন রিকশার ওয়েট করছি.. (এদিক-ওদিক তাকিয়ে)
-আচ্ছা পেছনে উঠে বসো...
পলক অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো,
-বাইকে..??
-তো কি আমার মাথায়!
-না না থাক! নো নিড.. পেয়ে যাবো রিকশা.. তুমি যাও..
-কি বললাম কানে গেলো না! এই বৃষ্টিতে রিকশা পাওয়া কঠিন আছে.. উঠলে তাড়াতাড়ি উঠো.. হারি আপ!
পলক আমার ধমকে ইতস্তত করতে করতে কোনোমতে ছাউনি থেকে বেরিয়ে বাইকে উঠে বসলো..
নিষেধ করার পরেও ও ওর হাতের ছাতাটা টানিয়ে আমাদের দুজনের মাথার উপর ধরলো..
ঠান্ডায় দাতে দাত চেপে কাপছিলো পলক.. ওর অবস্থা দেখে হাসি পাচ্ছিলো আমার.. ও আমার হাসি দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলো,
-এই যে! হাসছো কেন..?
-কই না তো..
পলক কোনো উত্তর দিলো না.. বাইকের লুকিং গ্লাসে দেখলাম শুধু ও লুকিয়ে একটা ভেঙচি কেটেছে আমায়.. আমি সামনে তাকিয়ে একটা নিরব হাসি দিলাম.. আমি ওকে ইশার কথা জিজ্ঞেস করলাম,
-ইশাকে দেখেছো রে দুপুরে..??
-না আজকে যেতে পারিনি তোমাদের বাসায়.. একটু কাজ ছিলো..
-ওহ্ আচ্ছা..
একটু পর বাসার সামনে চলে আসলাম আমরা... পলককে নামিয়ে দিয়ে আমিও বাইকটা ভেতরে সাইড করে চলে গেলাম..
বাসায় গিয়ে কলিংবেল চাপতেই ইশা দরজা খুলে দিলো..
দুপুরের জন্য এমনিতেই আমার মেজাজটা বিগড়ে ছিলো.. তাই এখন ইশা দরজা খুলতেই দুপুরের প্রসঙ্গটা তুললাম..
আমি জুতা খুলে ভেতরে যেতে যেতে ইশাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-দুপুরে কোথায় ছিলে..??
ইশা যেন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো.. ও আমার জন্য গ্লাসে জল আনতে আনতে বললো,
-কোথায় থাকবো আবার.. বাসাতেই..
-তুমি জানোনা তোমার সাথে দুপুরে কথা না বলে Lunch করতে পারিনা আমি! ইদানীং এমন করছো কেন তুমি! একটাবার কি কল দেওয়া যেতো না দুপুরে! এতোই Busy ছিলে তুমি!
-হৃদয়! কাজ করছিলাম তো.. বাসায় তো থাকো না, তাই বুঝো না কতো কাজ!
-Ok Ok Fine! মানলাম তুমি কাজ করছিলে, তাই বলে কি কল রিসিভটাও করতে পারো নি তুমি.. কতোবার কল দিয়েছি জানো!
-ফোনের কাছে ছিলাম না.. গোসল নাহয় রান্নাঘরে ছিলাম হয়তো...
-বাহ্! গোসল বা রান্নার পরও কি একটাবার সময় হয় নি আমাকে কল করার? একটা মেসেজও তো দিতে পারতে...
-পরে তুমি কাজে ব্যস্ত থাকবে ভেবে আর কল করিনি..
-ভালো!
ইশার হাতের জলটা না খেয়েই উপরে চলে গেলাম.. ব্যাপারটা আর বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই..
ভেবেছিলাম ইশাকে এসে ওটা নিয়ে অনেক কথা বলবো.. কিন্তু ইশার উত্তরগুলোতে একদম নির্বাক হয়ে গেলাম.. এতো চাপা জবাব ওর.. এখন ওর আমার সাথে কথা বলারও সময় হয় না একটু!
যেখানে ইচ্ছা বা টান এক ফোটাও নেই, সেখানে এক তরফা বলা কথাগুলোও তুচ্ছ হয়!
রুমে এসে ফ্রেস হয়ে একটু পর প্রীতমের সাথে বাজারে চলে গেলাম..
রাতে ইশাও আমার সাথে তেমন কথা বললো না, তাই আমিও কিছু বলার দরকার মনে করলাম.. ডিনার করে সোজা ঘুম দিলাম..
.
পরের দিন সন্ধ্যাবেলা হালকা নাশতা করে রুমে এসে দেখলাম ইশা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে.. আমিও ওখানে গিয়ে ইশার পেছনে থেকে দুদিকে রেলিংয়ে ধরে ওকে আমার আর রেলিং এর মাঝখানে আটকে নিলাম..
.
.
(চলবে)

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,31,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,31,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,31,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: ধোকা পর্ব - ০৩ || হৃদয় চৌধুরী
ধোকা পর্ব - ০৩ || হৃদয় চৌধুরী
https://4.bp.blogspot.com/-O4QV6UZO4RM/XIS5VrvrgHI/AAAAAAAAAIQ/5202kXapuCctureUd1znNG8SAb0M9Is_wCPcBGAYYCw/s320/Logopit_1552201045018.jpg
https://4.bp.blogspot.com/-O4QV6UZO4RM/XIS5VrvrgHI/AAAAAAAAAIQ/5202kXapuCctureUd1znNG8SAb0M9Is_wCPcBGAYYCw/s72-c/Logopit_1552201045018.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_11.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post_11.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content