--> ধোকা পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী | LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network

ধোকা পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী

Hridoy Chawdhury আমিও ওখানে গিয়ে ইশার পেছনে থেকে দুদিকে রেলিংয়ে ধরে ওকে আমার আর রেলিং এর মাঝখানে আটকে নিলাম.. পেছন থেকে ওর বাম গালে...


Hridoy Chawdhury
আমিও ওখানে গিয়ে ইশার পেছনে থেকে দুদিকে রেলিংয়ে ধরে ওকে আমার আর রেলিং এর মাঝখানে আটকে নিলাম..
পেছন থেকে ওর বাম গালে আমার ডান গালটা আলতো করে একটু ঘষিয়ে দিলাম..
ইশা কিছুটা চমকে উঠে হালকা ফিরে তাকালো আমার দিকে...
আমি ইশার গালে একটা ছোট্ট চুমু খেয়ে বললাম,
-বউ রে আমার! তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে খুব কষ্ট হয়.. ভালোবাসি খুব..
ইশা যে ফোনে কথা বলছিলো সেটা খেয়াল করিনি.. ঐসময় ওভাবে ওকে ধরার জন্য ও বেশ বিরক্তিভাব নিয়ে তাকালো আমার দিকে,
-ফোনে কথা বলছি সেটাও দেখো না.. সবসময় এতো চিপকে থাকার স্বভাব কেন! এসব আদিখ্যেতা ভালো লাগে না প্লিজ!
বলেই ও আমাকে সরিয়ে দেখে বেলকনি থেকে রুমের দিকে চলে গেলো..
আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে নির্বাকভাবে তাকিয়ে থেকে আবার ফিরে বেলকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম...
হঠাৎ কারোর ডাকে নিচের দিকে তাকালাম.. দেখলাম পলক নিচে থেকে ডাকছে আমাকে..
ওর দিকে তাকাতেই ও চেচিয়ে উঠলো,
-ঐ! সেই কখন থেকে ডাকছি! শুনতে পাও না নাকি! কোন হুশে থাকো..?
-না মানে.... কিছু না.. বলো ডাকছো কেন?
-তোমার ফেভারিট নুডুলস রান্না করেছিলাম.. খাবে এসো..
-ভালো লাগছে না..
-খাবে না?
-না রে.. তুমি খেয়ে নাও..
পলকের মুখটা কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো,
-আচ্ছা.. তিতুকে পাঠিয়ে দাও...
-হুম..
পলক চলে গেলো ওখান থেকে.. কিছুক্ষণ ঠায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে নিচে গিয়ে তিতুকে পলকের বাসায় যাওয়ার কথা বলে এলাম...
.
এভাবেই গেলো কয়েকদিন... সন্ধ্যাবেলা একদিন অফিস থেকে এসে দেখি ইশা চিল্লাচিল্লি করছে.. খানিক বাদে বুঝতে পারলাম তিতুকে ঝারি দিচ্ছে ও..
তিতু নাকি কেয়ারলেস.. ঘর-টর যে সবসময় এলোমেলো থাকে, সেটা খেয়াল করে কখনো গুছিয়ে রাখে না..
ঘরের একটা টুকরাও নাকি সরিয়ে দেখে না তিতু.. কাজ-টাজ তো দূরের কথা.. এসব উছিলা শুনে মেজাজটা ঠিক থাকলো না আমার...
আরে তিতু ছোট মানুষ মাত্র! স্কুলে সামনে এক্সাম ওর.. স্টাডি ছাড়া ও আর কি কাজ করবে..
আমি যতদূর জানি তিতুকে, ও যথাসম্ভব হেল্প করে ইশাকে.. কিন্তু তবুও ইশার এমন করার তো কোনো মানে হয় না..
এটা নিয়ে ইশার সাথে ঐদিন খুব কথা কাটাকাটি হলো.. সেদিনের পর থেকে প্রায়ই আমাদের মধ্যে নিতান্ত ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ঝগড়া হতে থাকে..
সুখের সংসারটা থেকে ভালোবাসা আর শান্তি -দুটোই যেন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছিলো..
আমার আর ইশার বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো.. এর আগে অন্য কোনো মেয়ের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো না..
তাই ইশাকেই আমার সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলাম... কিন্তু ইশা কি আদৌ বুঝতে পারে আমাকে!
ইশা এখন কেমন যেন একা একা থাকতেই পছন্দ করে.. ওর কাছে একটু ঘেষাঘেষি করলেই ও মেজাজ দেখানো শুরু করে..
খুব খারাপ লাগে তখন.. বুকটা চিনচিন করে উঠে.. কীভাবে নিজেকে সামলাবো বুঝে উঠতে পারিনা..
.
একদিন রুমে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলাম.. একটু পর তিতু এসে বললো যে মা নাকি ডাকছে আমায়...
ল্যাপটপটা রেখে মায়ের রুমে গেলাম.. যেতেই মা আমাকে মায়ের পাশে বসতে বললো..
আমি মায়ের পাশে বসে মায়ের একটা হাত আকড়ে ধরে জিজ্ঞেস করলাম,
-কী হয়েছে মা? ডেকেছো?
মা আমার কাধ থেকে পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
-বাবা রে.. কয়েক মাস ধরে দেখছি, তোর আর ইশা মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়.. কেন রে? কিছু হয়েছে?
আমি মায়ের প্রশ্নে মাথাটা নিচু করে ফেললাম,
-মা... কী উত্তর দেবো.. এভাবে ইশার সাথে প্রতিনিয়ত কথা কাটাকাটি করতে চাই না আমি.. কিন্তু ওর বিহেইভিয়ার গুলোই আমাকে ওইরকম করতে বাধ্য করে.. কয়েক মাস ধরে ওর পরিবর্তনটা দেখছো তুমি! মা এসব সহ্য হয় না আমার..
মা এবার একটা প্লাস্টিক হাসি দিয়ে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আমার দিকে তাকালেন,
-ঝগড়া আর চিন্তা, কোনোটাই করিস না আর.. দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে..
-হাহ্! আর কিছু ঠিক হওয়ার নেই মা.. ইশা হয়তো এই পরিবর্তন টাতেই হ্যাপী আছে খুব..
-হয়তো ইশার বেশ অভিমান হয়েছে তোর উপর.. তাই এমন করে..
-না মা... অন্য কিছু হয়েছে হয়তো.. যেটা তুমি আমি কেউই বুঝতে পারছি না.. যাই হোক মা, অফিসের কাজ আছে অনেক.. যাই এখন..
-আচ্ছা যা..
-হুম..
মায়ের রুম থেকে অফিসের কাজের বাহানা দেখিয়ে চলে আসলাম... যদিও সত্যিই অফিসের কাজ আছে, তবুও আসল পয়েন্ট ছিলো ইশাকে নিয়ে ভেতরের চাপা কষ্টটা.. ভালো লাগে না আর..
.
সেদিন হঠাৎ ই পলক আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলো,
-হৃদয়, ইদানিং যেন খুব শুকিয়ে যাচ্ছো তুমি... কিছু হয়েছে রে?
পলকের প্রশ্নে খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম আমি.. বুকটা কেপেও উঠেছিলো, এটা ভেবে যে, পলকও আমার এতোকিছু খেয়াল করে! অথচ ইশা আমাকে দুই ভাগও বুঝতে পারে কিনা সন্দেহ আছে...
এসব ভাবতে ভাবতে একটু পর পলকের ডাকে হুশ ফিরলো আমার..
-কি রে! (পলক)
-এ? কই কিছু না তো..
-শরীর মন ঠিক আছে তো তোমার?
-হ্যা সবই ঠিক..
বলেই প্রসঙ্গ এড়ানোর উদ্দেশ্যে ওখান থেকে চলে এলাম..
আসার সময় একবার ফিরে তাকিয়েছিলাম পলকের দিকে.. ওর নজরে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ করলাম আমি..
যাই হোক, ওটা পাত্তা না দিয়ে আবার ইশার চিন্তাতেই ডুবে গেলাম..
বিয়ের প্রথম প্রথম তো খুব ভালোই একটা সুখী দম্পতি হিসেবে দিন কাটাচ্ছিলাম আমরা.. বেশ ভালোই যাচ্ছিলো সব..
কিন্তু কয়েকমাস পরেই যেন সব উলোটপালোট হয়ে গেলো.. ইশার মধ্যেও কতোসব পরিবর্তন দেখা দিচ্ছিলো.. কেন হচ্ছিলো এসব!
ভালোবাসা দিতে তো কম দেই না ইশাকে! তাহলে ইশা কি আমার ভালোবাসা বুঝে না? নাকি বুঝতে চায় না!
ঈশ্বর! আমার ইশাটা আমার সাথে কেন করে এমন, কেন করে!
রাতেও এখন এসব ভেবে ভেবে আর ঘুম আসে না..
সারারাত শুধু এপাশ ওপাশ করি.. নাহয় রুমের মধ্যেই পায়চারি করি..
ইশা তো এসবের খেয়াল রাখে না.. খুব শান্তিতেই ঘুমায়.. আর আমি সারাটা রাত ওর ঘুমন্ত চেহারাটা দেখে কাটিয়ে দেই..
.
এভাবেই কাটছিলো আমার দিনগুলো...
.
অফিসে একদিন কাজ করতে করতে শরীরটা খুব খারাপ লাগছিলো... তাই ঐদিন দুপুরের দিকেই বাড়ি ফিরে আসলাম..
বাসায় এসে দরজা খোলা দেখে খুব অবাক হলাম.. তিতু আর মা তো মামার বাড়ি.. আর ইশা তো একা থাকলে সবসময় দরজা লাগিয়েই রাখে..
তাহলে ইশা কি দরজা খোলা রেখে বাইরে টাইরে গেলো নাকি! এসব ভাবতে ভাবতে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম..
ভেতরে ঢুকতেই একদম অবাক হয়ে গেলাম আমি.. আমার চোখের সামনে প্রীতম ইশার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে...
ওরা আমাকে হঠাৎ দেখে একদম চমকে উঠলো.. নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি.. কিছুক্ষণের জন্য একদম থমকে গেলাম..
খানিকক্ষণ হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ ই ক্রোধের দৃষ্টিতে প্রীতমের দিকে এগিয়ে গেলাম আমি..
গিয়েই দুইহাতে শক্ত করে প্রীতমের কলারটা চেপে ধরলাম আমি,
-কুত্তার বাচ্চা! এত্তোটা বিশ্বাস করতাম তোকে.. আর তুই এভাবে আমার সাথে বেইমানী করলি! ভাই হয়েও তুই.......... ছিহঃ
তৎক্ষনাৎ ই ইশা এসে এক ঝটকায় প্রীতমের কলার থেকে হাত ছাড়িয়ে গলা উচিয়ে বললো,
-হৃদয় প্লিজ! আই লাভ প্রীতম!
ইশার মুখে এমন কথা শুনে একদম হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি.. আমার চোখের সামনে সব যেন অন্ধকার দেখছিলাম আমি..
.
.
(চলবে)

COMMENTS

Name

অচেনা প্রান্তর,1,অনুভুতির প্রতিশোধ,3,অপেক্ষা,1,অবিদিত সেই তুমি,1,অ্যাফ্লিক্টেড বোবা,1,আপেক্ষিক,1,আমার জন্ম ভূমি,1,আরেক জগৎ,1,আসবে মরণ,1,আহারে জীবন,1,ঈদের চাঁদ,1,উপন্যাস,40,একে আজাদ,4,ওরে খোকা,1,কবিতা,19,কলমের শক্তি,1,গল্প,34,চাঁদ মামা,1,চিত্তের আর্তনাদ,1,ছোট গল্প,9,জিসান আহম্মেদ রাজ,24,দৃষ্টির আগোচরে,3,ধৈর্যের ফল,1,ধোকা,12,পিচ্চি বউ,13,প্রত্যাবর্তন,2,প্রেমাতাল,40,ফরিদ সরকার,10,ফারজানা শারমিন,2,ভিন্ন চোখ,1,ভুল,1,মিছে স্বপ্নের জাল বুনি,1,মেঘ রোদ্দুর,2,মৌরি মরিয়ম,40,শফিক নোমানী,3,শশুরবাড়ি,6,সুখ দুঃখ,1,সুরভিত অতীত,1,সেই তুমি,1,সৌরভ সাধুখান,1,হৃদয় চৌধুরী,18,
ltr
item
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network: ধোকা পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী
ধোকা পর্ব - ০৪ || হৃদয় চৌধুরী
https://2.bp.blogspot.com/-Uo91UqAzlbs/XIS5ZvtW0EI/AAAAAAAAAII/WOTOhIFGtRMt1DSlV-0WzX6anEw6ErUvACPcBGAYYCw/s320/Logopit_1552201078617.jpg
https://2.bp.blogspot.com/-Uo91UqAzlbs/XIS5ZvtW0EI/AAAAAAAAAII/WOTOhIFGtRMt1DSlV-0WzX6anEw6ErUvACPcBGAYYCw/s72-c/Logopit_1552201078617.jpg
LekhaPriyo.Com - Writers & Readers Network
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post1224.html
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/
https://www.lekhapriyo.com/2019/03/blog-post1224.html
true
1831162134532447050
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy Table of Content